init($el.children[0]))">
শরীয়তপুরের জেলা প্রশাসকের পক্ষে,
সাংবাদিকদের বিরুদ্ধে জেলা বিএনপি'র
প্রতিবাদ সমাবেশ, সংবাদ সংগ্রহের সময়
তিন সাংবাদিকের ওপর হামলা!
শরীয়তপুর প্রতিনিধি :
শরীয়তপুরের
জেলা
প্রশাসকের
পক্ষে,
সাংবাদিকদের
বিরুদ্ধে
জেলা
বিএনপি'র প্রতিবাদ সমাবেশ করেছে। প্রতিবাদ সমাবেশে সংবাদ সংগ্রহ
করতে গিয়ে দ্য ডেইলি স্টার এ প্রতিনিধি সহ তিনটি গণমাধ্যমের সাংবাদিক
মারধরে শিকার হয়েছেন। মঙ্গলবার সকাল (১০টা থেকে ১০ঃ৩০ পর্যন্ত)
জেলা প্রশাসকের কার্যালয় সম্মুখে তারা এই মারধর শিকার হন। এই ঘটনায়
এক সাংবাদিকের আঙ্গুলে ফাটলের শিকার হয়। পাশাপাশি শরীয়তপুর জেলা
প্রেসক্লাব ঘটনার প্রেক্ষিতে নিন্দা জানিয়ে একটি বিবৃতি প্রদান করেছে।
ভু
ক্ত
ভোগী সাংবাদিক ও স্থানীয় সূত্রে জানা যায়, সাম্প্রতিক সময়ে জেলা
প্রশাসক জেলা প্রেসক্লাব লিখিত নোটিশ না দিয়ে শরীয়তপুর প্রেসক্লাবের
সীমানা প্রাচীর ভেঙে দেন এবং এই ঘটনাকে কেন্দ্র করে সময় টিভির
শরীয়তপুর প্রতিনিধি বিএম ইসরাফিলকে মেরে হাত ভেঙে দেয়া হয়। এই
২
ঘটনার
প্রতিবাদ
জানিয়ে
রবিবার
দুপুরে
শরীয়তপুর
প্রেসক্লাবের
সাংবাদিকরা জেলা প্রশাসকের কার্যালয়ের সামনে মানববন্ধন এবং বিক্ষোভ
করেন। শরীয়তপুরেরসাংবাদিকরা বিক্ষোভের নামে জেলা প্রশাসককে লাঞ্ছিত
করেছেন। এমন অভিযোগ এনে জাতীয়তাবাদী দল বিএনপি ও অঙ্গ
সংগঠনের নেতাকর্মীরা শরীয়তপুরের সাধারণ জনগণের ব্যানারে জেলা
প্রশাসকের পক্ষে জেলার কর্মরত সাংবাদিকদের বিরুদ্ধে ফ্যাসিবাদের দোশর
আক্ষা দিয়ে এক প্রতিবাদ সমাবেশের আয়োজন করেন। সকাল ১০ টায়
তাদের প্রতিবাদ সমাবেশ শুরু হয়। এই সময় বিএনপি নেতা কর্মীরা একটি
মিছিল বের করেন। মিছিলে তারা বিভিন্ন ধরনের স্স্নোগান দেন।
এই
সময় পেশাগত দায়িত্ব পালনে সংবাদ সংগ্রহের জন্য কয়েকজন
সাংবাদিক জেলা প্রশাসকের কার্যালয়ের সম্মুখে যান। এইদিকে
তারা
প্রতিবাদ
সমাবেশের
ছবি
ও
ভিডিও
ধারন
করেন।
হঠাৎ
বিএনপির
নেতাকর্মীরা জেলা স্বেচ্ছাসেবক দলের সভাপতি আমিনুর রহমান আমান,
জেলা যুবদলের সাবেক সভাপতি আরিফ মোলস্নার নেতৃত্বে জেলা পরিষদের
প্রশাসক ও জেলা বিএনপির সেেμটারি সর্দার একে.এম নাসিরুদ্দিন কালুর
ব্যাি
ক্ত
গত ড্রাইভার রুবেল মোলস্নাসহ ১০/১২ জন এই ৩ সাংবাদিককে মারধর
করেন। সকাল ১০ টা থেকে সাড়ে ১০ টা পর্যন্ত বিভিন্ন সময়ে
৩ জন
সাংবাদিককে মারধরের শিকার হন। এই সময় সাংবাদিকদের কিল-ঘুষি, চড়
থাপ্পড় ও লাথি মারেন তারা। সকাল ১০ টায় নিউজ ২৪ ও জাগো নিউজের
জেলা প্রতিনিধি বিধান মজুমদারকে, ১০ টা ১৫ মিনিটে দৈনিক মানবকন্ঠ ও
দৈনিক এদিন জেলা প্রতিনিধি মো: বরকত উলস্নাহ এবং সকাল সাড়ে ১০ টায়
ডেইলি স্টারে জেলা প্রতিনিধি জাহিদ হাসানকে মারধর করা হয়। এই সময়
আরিফ মোলস্না জাহিদ হাসানের মোবাইল কেড়ে নেন, পকেটে থাকা আইডি
কার্ড ছিড়ে নিয়ে যান। এই সময় সিনিয়র সাংবাদিক ইসহাক মাদবর জাহিদ
হাসানকে
বাচাতে
গিয়ে
হামলার
শিকার
হন।
পরে
বিএনপি
নেতা
অ্যাডভোকেট জালাল আহমেদ ও জেলা ছাত্রদলের সেেμটারি সোহেল
তালুকদার ও ছাত্রদল নেতা আতিক খান জাহিদকে নিরাপদ স্থানে নিয়ে যান।
পরে জেলা বিএনপির যুগ্ম সাধারন সম্পাদক বাদল বেপারী জাহিদ হাসানের
মোবাইল ফোন এবং আইডি কার্ড ফেরত এনে দেন। এই বিষয়ে জানতে
চাইলে এই বিষয়ে জানতে চাইলে দ্য ডেইলি স্টারের শরীয়তপুর ও মাদারী
-
পুর প্রতিনিধি জাহিদ হাসান বলেন, জেলা প্রশাসকে পক্ষে সাংবাদিকদের
বিরুদ্ধে জেলা বিএনপি নেতা কর্মীরা এক প্রতিবাদ সমাবেশের ডাক দেন।
পেশাগত দায়িত্ব থেকেই তথ্য সংগ্রহের জন্য গিয়েছিলাম। যখন ভিডিও ধারণ
করছিলাম তখন হঠাৎ করে যুবদল নেতা আরিফ মোলস্না আমার মোবাইল
ছিনিয়ে নেন এবং আইডি কার্ড ছিড়ে ফেলেন। এই সময় তিনি আমার গালে
কয়েকটি চড় থাপ্পড় ও কিল-ঘুষি মারেন। তিনি বলেন তোরে ভিডিও করতে
কইছে কেডা, তোর এত বড় সাহস, সাংবাদিকদের গুষ্টি কিলাই, তোরে
একদম পাড়াইয়া মাইরা ফালামু। এরপর পরপরই তার সহকর্মীরা আমাকে
কিল ঘুষি ও লাথি মারেন। পরে সিনিয়র সাংবাদিক ইসহাক মাদবর সহ
কয়েকজন আমাকে নিরাপদ স্থানে নিয়ে যান।
মারধরের শিকার নিউজ ২৪
ও জাগো নিউজের জেলা প্রতিনিধি বিধান মজুমদার বলেন, দায়িত্ব পালনে
আমি জেলা প্রশাসকের কার্যালয়ের নিচে যাই। স্বেচ্ছাসেবক দলের সভাপতি
আমিনুর রহমান
আমান,
আমাকে দেখে
তেড়ে আসেন, তিনি বলেন
সাংবাদিকরা এখানে কেন আসছোস, তোর যেখানে কাজ কি, তোরে ভিডিও
করার সাহস কে দিছে? এ কথার বলার পরপরই তিনি আমার আঙ্গুল ভাঙ্গার
চেষ্টা করেন। তিনি পুনরায় বলেন তুই তোর এই আঙ্গুল দিয়া নিউজ লেখস
তোর আঙ্গুল থাকবো না । এই সময় আমি নিজের হাত ছাড়িয়ে চলে আসার
চেষ্টা করার সময়। তার সাথে থাকা ১০-১২ জন মিলে আমাকে কিল ঘুষি ও
লাথি মারেন। পরে ঘটনাস্থল থেকে আমি দ্রুত দেড়ৗ দিয়ে নিরাপদ স্থানে চলে
আসি। ভু
ক্ত
ভোগী সাংবাদিক দৈনিক মানবকন্ঠ ও দৈনিক এদিন জেলা
প্রতিনিধি মো: বরকত উলস্নাহ বলেন আমি সোয়া দশটার দিকে ঘটনাস্থলে যাই
প্রতিবাদ সমাবেশের সংবাদ সংগ্রহের জন্য, আমি এ সময় শুধু দঁাড়িয়ে
প্রতিবাদ সমাবেশ দেখছিলাম। এই সময় জেলা যুবদলের সাবেক সভাপতি
আরিফ মোলস্না আমাকে দেখে বলে তুই না সাংবাদিক, ধর শালারে, শালারে
এখনই মার। এ কথা বলার সাথে সাথেই তার সাথে থাকা ৮-১০ জন
সহযোগী আমাকে এলো পাথারি কিল ঘুষি মারে। এই সময় আমার বাম
হাতের একটি আঙ্গুল ব্যথা পাই। ডক্টর বলেছে আঙ্গুলে ফ্যাকচার রয়েছে।
এই বিষয়ে জানতে চাইলে মারধরকারী, জেলা যুবদলের সাবেক সভাপতি
আরিফ মোলস্না গণমাধ্যমকে বলেন, কোন সাংবাদিককে মারিনি আমরা।
একসঙ্গে ওদের সাথে ধাক্কাধাক্কি হয়েছে। তার হাতের মোবাইল পড়ে
গিয়েছে। তাহলে সাংবাদিকদের মারল জানতে চাইলে তিনি বলেন, কেউ তো
মারছে, আপনার অপেক্ষায় থাকেন সাংবাদিকরা লিখবে আর আমরা আবার
পিটাবো, আমাদের কাছে সাংবাদিকদের অনেকের লিস্ট আছে, আলস্নার
রহমতে আজকের মঙ্গলবার সন্ধ্যার মধ্যেই সবকটার (খবর আছে) ব্যবস্থা
নিব। এ বিষয়ে জেলা স্বেচ্ছাসেবক লীগের সভাপতি আমিনুর রহমান আমান
বলেন। একজন ব্যি
ক্ত
কে দেখেছি কয়েকজনকে ধাক্কাধাক্কি করতে। আমরা
জানতাম না তিনি সাংবাদিক। এর বেশি কিছু বলতে পারব না ব
ক্ত
ব্য না
প্রয়োজন হলে সামনাসামনি দেখা করেন। জানতে চাইলে শরীয়তপুর জেলা
বিএনপির
সহ-সভাপতি
শাহ
মোহাম্মদ
আব্দুস
সালাম
শাহ্
বলেন,
সাংবাদিকেরা জেলা প্রশাসকের সাথে অন্যায় আচরণ করেছেন। তারা এভাবে
তার প্রত্যাহার চাইতে পারে না। সাংবাদিকতার আড়ালে কিছু সন্ত্রাসী ও
ফ্যাসিবাদের দোসরা বিএনপি সরকারের ভাবমূর্তি ক্ষুন্ন করার জন্য এমন কাজ
করেছেন। এ কারণে আমরা প্রতিবাদ সমাবেশ করেছি। সেখানে কোন
সাংবাদিক নিগৃহীত বা মারধরের শিকার হয়েছেন কিনা তা আমার জানা
নেই।এবিষয়ে জেলা প্রেসক্লাবের সভাপতি আবুল হোসেন সরদার বলেন,
পেশাগত দায়িত্ব পালন করতে গিয়ে সাংবাদিকদের ওপর হামলার ঘটনায়
তীব্র নিন্দা ও প্রতিবাদ জানাচ্ছি। তদন্ত করে এই ঘটনার সাথে জড়িতদের
প্রত্যেকেই আইনের আওতায় এনে বিচার দাবি করছি।এই বিষয়ে জানতে
চাইলে জেলা পুলিশ সুপার রওনক জাহানকে ফোন দিলে মুঠোফোন না ধরায়
তার ব
ক্ত
ব্য নেয়ার সম্ভব হয়নি।
