init($el.children[0]))">
খালেদ সিদ্দিকী, বগুড়া :
বগুড়া
শহরের
স্নিগ্ধা
আবাসিক
এলাকায় অনুমোদিত নকশায় থাকা
জলাশয় ও বিনোদন এলাকার জায়গা
ভরাট করে পস্নট তৈরি, জমি বিিμ এবং
সেখানে
বহুতল
ভবন
নির্মাণের
অভিযোগ উঠেছে। এ নিয়ে ক্ষোভ
প্রকাশ
করেছেন
এলাকাবাসী
ও
শিক্ষার্থীরা। একই সঙ্গে ভরাট করা
জায়গায় খেলার মাঠ করার দাবিতে
মানববন্ধন করেছেন তারা।
মঙ্গলবার
(২৫
আগস্ট)
স্নিগ্ধা
আবাসিক
এলাকায়
অনুষ্ঠিত
মানববন্ধনে
ব
ক্ত
ারা
বলেন,
একটি
আবাসিক
এলাকার
পরিকল্পনায়
জলাশয়,
উন্মু
ক্ত
স্থান
ও
বিনোদন
এলাকার যে জায়গা নির্ধারণ করা থাকে, তা পরবর্তীতে
পরিবর্তন করে আবাসিক পস্নটে রূপান্তর করা হলে এর
প্রভাব শুধু পরিবেশের ওপর পড়ে না; পানি নিষ্কাশন,
অগ্নিনিরাপত্তা ও শিশু-কিশোরদের খেলাধুলার সুযোগও
সংকুচিত
হয়।স্থানীয়
বাসিন্দাদের
অভিযোগ,
১৯৯১
সালে স্নিগ্ধা আবাসিক এলাকা প্রতিষ্ঠার সময় বগুড়া
পেরৗসভা অনুমোদিত নকশায় একটি বড় অংশ পুকুর ও
বিনোদন এলাকা হিসেবে রাখা হয়েছিল। কিন্তু পরবর্তীতে
ওই নকশার পরিবর্তন করে পুকুর বা পার্কের জায়গা
ভরাট করে পস্নট তৈরি ও বিিμ করা হয়েছে। এখন সেই
ভরাট
করা
জায়গায়
বহুতল
ভবন
নির্মাণের
কাজ
চলছে।অভিযোগের
বিষয়ে
স্থানীয়দের
প্রশ্ন-
একবার
অনুমোদিত
আবাসিক
এলাকার
নকশায়
জলাশয়
ও
বিনোদন
এলাকার
জন্য
নির্ধারিত
জায়গা
কীভাবে
পরিবর্তন করা হলো? সেই জায়গা কীভাবে নতুন করে
পস্নটে রূপান্তরিত হয়ে বিিμ হলো? আর সেখানে
জলাশয় ও বিনোদন এলাকার জায়গায় খেলার
মাঠের দাবিতে মানববন্ধন, তদন্তের দাবি
জলাশয় ও বিনোদন এলাকার
ভবন নির্মাণের অনুমোদনই বা কীভাবে মিলল? এসব বিষয়ে নথিপত্র যাচাই
করে
তদন্তের
দাবি
জানিয়েছেন
তারা।সম্প্রতি
এ
নিয়ে
বগুড়া
সিটি
করপোরেশনে লিখিত অভিযোগও দেওয়া হয়েছে। অভিযোগকারীদের ভাষ্য,
জলাশয় ভরাট করে নির্মাণকাজ চলায় সিটি করপোরেশন থেকে নির্মাণকাজ
বন্ধ রাখার নির্দেশ দেওয়া হয়েছিল। উভয় পক্ষকে শুনানির জন্য আগামী ৩১
আগস্ট তারিখ নির্ধারণ করা হয়েছে। তবে নোটিশের পর কয়েকদিন কাজ বন্ধ
থাকলেও পরে আবার নির্মাণকাজ শুরু হয়েছে বলে অভিযোগ স্থানীয়দের।মাঠ
নেই, বাড়ছে ভবন- মাদক নিয়ে উদ্বেগমানববন্ধনে ব
ক্ত
ারা বলেন, স্নিগ্ধা
আবাসিক এলাকায় একের পর এক বহুতল ভবন নির্মিত হলেও শিশু-কিশোর
ও তরুণদের খেলাধুলার জন্য পর্যাপ্ত মাঠ নেই। ফলে অবসর সময় কাটানোর
সুস্থ
পরিবেশ থেকে
বঞ্চিত
হচ্ছে তরুণ
প্রজন্ম।তাদের
মতে,
একটি
পরিকল্পিত আবাসিক এলাকায় খেলার মাঠ কেবল বিনোদনের জায়গা নয়;
এটি শিশু-কিশোরদের শারীরিক ও মানসিক বিকাশের পাশাপাশি সামাজিক
সম্পৃ
ক্ত
তা বাড়ানোর গুরুত্বপূর্ণ ক্ষেত্র। মাঠের অভাবে তরুণদের একটি অংশ
অনিয়ন্ত্রিতভাবে সময় কাটানোর সুযোগ পায়, যা মাদকসহ নানা সামাজিক
অপরাধের ঝুঁকি বাড়াতে পারে।মানববন্ধনে শফিকুল ইসলাম স্বপন বলেন,
স্নিগ্ধা আবাসিক এলাকার ভরাট করা জায়গায় একটি খেলার মাঠ করা হলে
শিশু-কিশোর ও যুবসমাজ উপকৃত হবে। তিনি এ বিষয়ে প্রধানমন্ত্রীর হস্তক্ষেপ
কামনা করেন।
জুলাই যোদ্ধা তাকদির ও ইমন বলেন, "এখানে একটি খেলার মাঠ করা
প্রয়োজন। খেলার মাঠ থাকলে যুবসমাজকে মাদকের ভয়াবহ ছোবল থেকে
দূরে রাখা সম্ভব হবে। প্রয়োজন হলে মাঠের দাবিতে আবারও আন্দোলনে
নামব।"
পুকুর
নেই,
অগ্নিকাণ্ডে
বাড়বে
ঝুঁকি
স্থানীয়দের
আরেকটি
বড়
উদ্বেগ
অগ্নিনিরাপত্তা নিয়ে। তাদের দাবি, আবাসিক এলাকায় অনেকগুলো বহুতল
ভবন নির্মাণ হয়েছে এবং এসব ভবনে হাজার হাজার মানুষ বসবাস করছেন।
এর মধ্যে জলাশয় ভরাট হয়ে গেলে অগ্নিকাণ্ডের মতো জরুরি পরিস্থিতিতে
পানির উৎস ও ফায়ার সার্ভিসের গাড়ি প্রবেশের সুযোগ্তদুই ক্ষেত্রেই সমস্যা
তৈরি হতে পারে। স্থানীয় বাসিন্দা নজরুল ইসলাম বলেন, স্নিগ্ধা আবাসিক
এলাকায় অনেকগুলো ভবন হয়েছে। এখানে বড় ধরনের অগ্নিকাণ্ড বা অন্য
কোনো দুর্ঘটনা ঘটলে পানির ব্যবস্থা না থাকায় ক্ষয়ক্ষতি আরও বাড়তে
পারে। অভিযোগকারীদের দাবি, নির্মাণাধীন ভবনের ক্ষেত্রে রাস্তার নির্ধারিত
সীমানা ও ভবন নির্মাণ বিধিমালা যথাযথভাবে অনুসরণ করা হচ্ছে কি না,
সেটিও তদন্ত করা প্রয়োজন। এমনকি দক্ষিণ পাশের পূর্বনির্মিত রাস্তার অংশ
ভেঙে ভবনের কলাম নির্মাণের অভিযোগও করেছেন তারা। এতে জরুরি
মুহূর্তে ফায়ার সার্ভিসের গাড়ি প্রবেশে প্রতিবন্ধকতা তৈরি হওয়ার আশঙ্কা
করছেন বাসিন্দারা।
'নকশা পরিবর্তন করে আবারও পুকুর ভরাট'
মানববন্ধনে খন্দকার আসলাম রেজা বলেন, "১৯৯১ সালে স্নিগ্ধা আবাসিক
এলাকা বগুড়া পেরৗসভা কর্তৃক অনুমোদিত। সেই আবাসিক এলাকার
ডিজাইন পরিবর্তন করে পুকুর বা পার্ক ভরাট করে পস্নট তৈরি এবং পুনরায়
বিিμ করা হয়ে থাকলে তা আবাসন প্রকল্পের আইনবহির্ভূত কর্মকাণ্ড। বিষয়টি
তদন্ত করে দেখা প্রয়োজন।"
তার ব
ক্ত
ব্য, শুধু বর্তমান নির্মাণকাজ নয়- কখন, কার অনুমোদনে এবং
কীভাবে মূল নকশার পরিবর্তন হয়েছে, সেই বিষয়টিও তদন্তের আওতায়
আনতে হবে।
এলাকাবাসীর অভিযোগ, জলাশয় ভরাটের পর জমি পস্নট আকারে বিিμ হয়ে
থাকলে সংশিস্নষ্ট দলিল, নামজারি, নকশা অনুমোদন এবং ভবন নির্মাণের
অনুমতিপত্রও যাচাই করা প্রয়োজন। একই সঙ্গে পরিবেশগত ছাড়পত্র ও
অন্যান্য প্রয়োজনীয় অনুমোদন নেওয়া হয়েছে কি না, তাও খতিয়ে দেখার
দাবি তাদের।
'জলাশয় ভরাটের পর ভবন নির্মাণ কীভাবে?'
স্থানীয় বাসিন্দারা বলছেন, বিষয়টি শুধু একটি ভবন নির্মাণের অনুমোদনের
প্রশ্ন নয়। বরং অনুমোদিত আবাসিক এলাকার মূল নকশা পরিবর্তন, জলাশয়
ভরাট, জমি পস্নটে বিভ
ক্ত
করা, বিিμ এবং পরবর্তী সময়ে সেখানে বহুতল
ভবন নির্মাণ- পুরো প্রিμয়াটি তদন্ত করা দরকার।
তাদের ভাষ্য,
কোনো অনুমোদিত নকশা পরিবর্তন হয়ে থাকলে তার
অনুমোদনকারী কর্তৃপক্ষ কে, পরিবর্তিত নকশায় জলাশয়ের জায়গাটি কীভাবে
দেখানো হয়েছে, জমির শ্রেণি কীভাবে পরিবর্তিত হয়েছে এবং ভবন নির্মাণের
অনুমোদনের সময় সংশিস্নষ্ট কর্তৃপক্ষ এসব বিষয় যাচাই করেছে কি না- এসব
প্রশ্নের উত্তর বের করা জরুরি।
বগুড়া শহরে অনুমোদিত নকশার বাইরে বহুতল ভবন নির্মাণ নিয়ে আগেও
উদ্বেগ প্রকাশিত হয়েছে। বিভিন্ন প্রতিবেদনে অনুমোদনের বাইরে ভবন
নির্মাণকে নগরবাসীর জন্য ঝুঁকিপূর্ণ হিসেবে উলেস্নখ করা হয়েছে।
নতুন উন্নয়ন কর্তৃপক্ষের আইনের আলোচনাতেও জলাশয়-মাঠ সুরক্ষা
এদিকে বগুড়া ও আশপাশের এলাকা নিয়ে 'বগুড়া উন্নয়ন কর্তৃপক্ষ আইন,
২০২৬'-এর খসড়ায় জলাশয়, খেলার মাঠ ও উন্মু
ক্ত
স্থান সুরক্ষার বিষয়টি
গুরুত্ব পেয়েছে। মন্ত্রিসভায় অনুমোদিত খসড়ায় অননুমোদিত নির্মাণ ও
জলাধার ভরাটের বিরুদ্ধে বিধানের কথাও উলেস্নখ করা হয়েছে।
এ অবস্থায় স্নিগ্ধা আবাসিকের বাসিন্দাদের দাবি, নতুন করে কোনো সিদ্ধান্ত
নেওয়ার আগে পুরোনো অনুমোদিত নকশা, বর্তমান নকশা, জমির রেকর্ড,
জলাশয়ের অবস্থান, পস্নট বিিμর কাগজপত্র এবং বহুতল ভবন নির্মাণের
অনুমোদন- সবকিছু একসঙ্গে যাচাই করা হোক।
যেথৗ তদন্তের দাবি
মানববন্ধনে স্থানীয় বাসিন্দা রেজাউল, করিম, বাবুসহ শিক্ষার্থীরা ব
ক্ত
ব্য দেন।
তারা ভরাটকৃত জায়গায় খেলার মাঠ প্রতিষ্ঠা, জলাশয় ভরাটের অভিযোগ
তদন্ত, অনুমোদিত নকশা পরিবর্তনের কারণ অনুসন্ধান, পস্নট বিিμ ও বহুতল
ভবন নির্মাণের অনুমোদন যাচাই এবং রাস্তার সীমানা ও নির্মাণ বিধিমালা
অনুসরণ করা হয়েছে কি না- তা সরেজমিন তদন্তের দাবি জানান। তাদের
দাবি, প্রয়োজনে সিটি করপোরেশন, জেলা প্রশাসন, পরিবেশ অধিদপ্তর ও
সংশিস্নষ্ট অন্যান্য কর্তৃপক্ষের সমন্বয়ে তদন্ত কমিটি করে পুরো বিষয়টি খতিয়ে
দেখা হোক। একই সঙ্গে অভিযোগের সত্যতা পাওয়া গেলে সংশিস্নষ্টদের
বিরুদ্ধে আইনানুগ ব্যবস্থা নিয়ে ভরাটকৃত জায়গাটি জনস্বার্থে খেলার মাঠ
হিসেবে সংরক্ষণের উদ্যোগ নেওয়া হোক। এখন মূল প্রশ্ন্তঅনুমোদিত
নকশায় জলাশয় ও বিনোদন এলাকার জন্য নির্ধারিত জায়গা যদি সত্যিই
পরিবর্তন ও ভরাট করা হয়ে থাকে, তাহলে সেই পরিবর্তনের অনুমোদন
কোথায়, জমি বিিμর প্রিμয়া কীভাবে সম্পন্ন হলো এবং একই জায়গায়
বহুতল ভবন নির্মাণের অনুমতি কীভাবে মিলল? এসব প্রশ্নের উত্তর খুঁজতে
দ্রুত ও নিরপেক্ষ তদন্তের দাবি জানিয়েছেন স্নিগ্ধা আবাসিকের বাসিন্দারা।
