পেরৗ আইনের তোয়াক্কা নেই! ফাউন্ডেশনবিহীন ভবনের ওপর একের পর এক তলা, ব্রাহ্মণবাড়িয়া ঝুঁকির নগরায়ণ, নীরব কেন পেরৗসভা এনামুল হক আরিফ, ব্রাহ্মণবাড়িয়া নিয়ম মানার কথা যারা বলবেন, তাদের চোখের সামনেই যদি একের পর এক অভিযোগ ওঠে ঝুঁকিপূর্ণ বহুতল ভবন নির্মাণের, তাহলে সাধারণ মানুষের নিরাপত্তা নিশ্চিত করবে কে? ব্রাহ্মণবাড়িয়া পেরৗ এলাকায় এমন প্রশ্ন এখন জনমনে ঘুরপাক খাচ্ছে। দীর্ঘদিন ধরে পেরৗসভার বিভিন্ন ওয়ার্ডে ভবন নির্মাণবিধি উপেক্ষা করে বহুতল ভবন নির্মাণের অভিযোগ উঠছে। স্থানীয়দের দাবি, অনেক ভবনেই অনুমোদিত নকশা, কাঠামোগত সক্ষমতা, মাটির ধারণক্ষমতা পরীক্ষা, অগ্নিনিরাপত্তা, বৈদ্যুতিক নিরাপত্তা এবং অন্যান্য বাধ্যতামূলক শর্ত যথাযথভাবে অনুসরণ করা হচ্ছে না। অভিযোগ রয়েছে, সংশিস্নষ্ট কর্তৃপক্ষের কার্যকর তদারকির অভাবের সুযোগেই এসব নির্মাণকাজ অব্যাহত রয়েছে। এই অভিযোগের বাস্তবতা যাচাই করতে অনুসন্ধানে নেমে সাংবাদিক দল ব্রাহ্মণবাড়িয়া পেরৗ এলাকার কালাইশ্রীপাড়া এলাকার মশলা গলিতে মনু মুনাইম বিল্ডিং এর উত্তর পাশে একটি বহুতল ভবন পরিদর্শন করে। স্থানীয় বাসিন্দাদের অভিযোগ, মৃত জাহাঙ্গীর হোসেনের ছেলে দিজার হোসেন একটি পুরোনো ভবনের ওপর আরও তলা নির্মাণ করছেন, যদিও ভবনটির মূল কাঠামো নাকি বহুতল নির্মাণের উপযোগী ফাউন্ডেশন ছাড়াই তৈরি করা হয়েছিল।নাম প্রকাশ না করার শর্তে একাধিক বাসিন্দা জানান, ভবনটি প্রথমে দুইতলা পর্যন্ত আবাসিক ব্যবহারের জন্য নির্মিত হয়। পরবর্তীতে তৃতীয় তলা যু ক্ত করা হয় এবং বর্তমানে চতুর্থ তলার কাজ চলছে। তাদের দাবি, এই অতিরি ক্ত নির্মাণ ভবনটির নিরাপত্তা নিয়ে গুরুতর প্রশ্ন তৈরি করেছে।বাসিন্দাদের ভাষ্য, ভবনটির আশপাশে ঘনবসতি রয়েছে। প্রতিদিন অসংখ্য মানুষ এই সড়ক ব্যবহার করেন। তাদের আশঙ্কা, সামান্য ভূমিকম্প, অতিবৃষ্টি কিংবা অন্য কোনো প্রাকৃতিক কম্পনেও ভবনটি ক্ষতিগ্রস্ত হলে আশপাশের ভবনেও এর প্রভাব পড়তে পারে। এমন পরিস্থিতিতে প্রাণহানি ও ব্যাপক সম্পদের ক্ষতির ঝুঁকি উড়িয়ে দেওয়া যায় না বলে তারা মনে করেন।স্থানীয়দের আরও অভিযোগ, নির্মাণকাজ নিয়ে প্রশ্ন তুললে ভবনের মালিকের পক্ষ থেকে অসহযোগিতামূলক আচরণ করা হয়। কেউ আপত্তি জানাতে গেলে হুমকি-ধমকির মুখে পড়তে হয় বলেও কয়েকজন অভিযোগ করেন। তবে এই অভিযোগের বিষয়ে অভিযু ক্ত ব্যি ক্ত র ব ক্ত ব্য জানা সম্ভব হয়নি।সরেজমিনে গিয়ে সাংবাদিকরা ভবনের মালিক দিজার হোসেন এর সঙ্গে কথা বলতে চাইলে তিনি অভিযোগ সম্পর্কে কোনো মন্তব্য করতে রাজি হননি। উপস্থিত সাংবাদিকদের উদ্দেশে তিনি বলেন, "আমি আপনাদের সঙ্গে কথা বলতে রাজি না। আপনারা চলে যান। পারলে যা করার করেন। পাশাপাসি তিনি সাংবাদিকদের সঙ্গে অসেজৗন্য মোলক আচরণ করে এরপর তিনি আর কোনো ব ক্ত ব্য দেননি।স্থানীয় সচেতন মহল বলছে, বিষয়টি শুধু একটি ভবনের নয়; এটি পুরো নগর ব্যবস্থাপনা, নির্মাণ নিরাপত্তা এবং পেরৗ তদারকির প্রশ্ন। তাদের মতে, যদি অভিযোগ সত্য হয়, তবে এটি ভবন নির্মাণবিধি বাস্তবায়নে গুরুতর দুর্বলতার ইঙ্গিত বহন করে। বিশেষজ্ঞদের মতে, কোনো ভবনের নকশা, ভিত্তি ও কাঠামোগত সক্ষমতা যাচাই ছাড়া অতিরি ক্ত তলা নির্মাণ ঝুঁকিপূর্ণ হতে পারে। তাই এ ধরনের অভিযোগ উঠলে অনুমোদিত নকশা, নির্মাণ অনুমতি, কাঠামোগত নকশা, প্রকেশৗলগত সক্ষমতা এবং প্রযোজ্য নিরাপত্তা মান অনুসরণ করা হয়েছে কি ন্তাতা সংশিস্নষ্ট কর্তৃপক্ষের মাধ্যমে পরীক্ষা করা জরুরি।এলাকাবাসীর দাবি, অবিলম্বে ব্রাহ্মণবাড়িয়া পেরৗসভা, সংশিস্নষ্ট প্রকেশৗল বিভাগ এবং অন্যান্য দায়িত্বশীল সংস্থা যেথৗভাবে ভবনটি পরিদর্শন করে প্রকৃত অবস্থা যাচাই করুক। যদি কোনো অনিয়ম বা ঝুঁকি পাওয়া যায়, তাহলে আইন অনুযায়ী প্রয়োজনীয় ব্যবস্থা নেওয়া হোক, যাতে ভবিষ্যতে কোনো দুর্ঘটনা ঘটার আগেই তা প্রতিরোধ করা যায়। প্রতিবেদন প্রকাশের আগ পর্যন্ত এ বিষয়ে ব্রাহ্মণবাড়িয়া পেরৗসভার সংশিস্নষ্ট কর্মকর্তা, পেরৗ প্রকেশৗলী এবং সংশিস্নষ্ট কর্তৃপক্ষের ব ক্ত ব্য পাওয়া যায়নি। তাদের ব ক্ত ব্য পাওয়া গেলে তা গুরুত্বসহকারে প্রকাশ করা হবে।