মানবপাচারের নতুন কেশৗল বিমানবন্দরের ভেতরের দুর্নীতি বন্ধ করা জরুরি বাংলাদেশে মানবপাচার বহুদিনের সমস্যা হলেও সাম্প্রতিক ঘটনাগুলো প্রমাণ করছে যে এ অপরাধ এখন রাষ্ট্রীয় প্রবেশদ্বার পর্যন্ত পেঁৗছে গেছে। কর্মসংস্থানের সংকট, বিদেশে কাজের সুযোগ সীমিত হয়ে পড়া এবং দালালচেμর প্রলোভন-সব মিলিয়ে হাজারো মানুষ প্রতিনিয়ত প্রতারণার শিকার হচ্ছেন। এ চμ শুধু গ্রামীণ দরিদ্র মানুষকে নয়, বরং শহরের মধ্যবিত্ত পরিবারগুলোকেও টার্গেট করছে। তারা ভিসার নামে ভুয়া কাগজপত্র তৈরি করছে, টুরিস্ট ভিসা বা ওমরাহ ভিসার আড়ালে মানুষকে বিদেশে পাঠাচ্ছে, আর সেখান থেকে অন্য দেশে পাচারের চেষ্টা করছে। এই প্রেক্ষাপটে সম্প্রতি মালয়েশিয়াগামী ৭৬ যাত্রীর মানবপাচারের পরিকল্পনা ভেস্তে যাওয়ার ঘটনা আমাদের চোখ খুলে দিয়েছে। 'শাপলা' নামক একটি গোপন কোডের গরমিলের কারণে পরিকল্পনাটি ব্যর্থ হয়। কিন্তু প্রশ্ন হলো- ত্রুটিপূর্ণ নথিপত্র থাকা সত্ত্বেও কীভাবে এত বিপুলসংখ্যক যাত্রী চেক-ইন কাউন্টার ও ইমিগ্রেশনের মতো একাধিক নিরাপত্তা স্তর নির্বিঘ্নে পার হয়ে বোর্ডিং গেট পর্যন্ত পেঁৗছে গেলেন? এটি প্রমাণ করে, বিমানবন্দরের ভেতরে দুর্নীতি ও যোগসাজশ ভয়াবহ আকার ধারণ করেছে। অতীতেও দেখা গেছে, সিভিল এভিয়েশনের দায়িত্বশীল পদে থাকা ব্যি ক্ত রা এই চেμর সঙ্গে যু ক্ত ছিলেন। সাম্প্রতিক তদন্ত প্রতিবেদনেও পুলিশসহ একাধিক স্তরের কর্মকর্তাদের জড়িত থাকার অভিযোগ এসেছে। মানবপাচারের এই চμ মূলত বিদেশে কর্মসংস্থানের সংকটকে কাজে লাগাচ্ছে। মালয়েশিয়ায় কর্মী নিয়োগের পথ সংকুচিত হওয়ায় অপরাধীরা টুরিস্ট ভিসার সুযোগ নিচ্ছে। শুধু মালয়েশিয়া নয়, ওমরাহ ভিসায় সৌদি আরব পাঠিয়ে সেখান থেকে কাতার, মিসর হয়ে নেপৗথে ইতালিতেও মানবপাচারের নজির রয়েছে। এভাবে বিমানবন্দরকে মানবপাচারের নিরাপদ রুটে পরিণত করা হলে আন্তর্জাতিক এভিয়েশন খাতে বাংলাদেশের বিশ্বাসযোগ্যতা ধূলিসাৎ হবে। বিদেশি এয়ারলাইন্সগুলোর আস্থা হারানোর আশঙ্কা ইতোমধ্যেই বিশেষজ্ঞরা প্রকাশ করেছেন। এ সংকট মোকাবিলায় প্রয়োজন জিরো টলারেন্স নীতি। বিমানবন্দরের ভেতরে থাকা 'বডি কন্ট্রাক্ট' সিন্ডিকেটের শিকড় উপড়ে ফেলতে হবে। ইমিগ্রেশন ও সিভিল এভিয়েশনের প্রতিটি স্তরে কঠোর নজরদারি নিশ্চিত করতে হবে। একই সঙ্গে পুরো বিমানবন্দরের নিরাপত্তা যাচাই-বাছাই প্রিμয়ার ডিজিটাল আধুনিকায়ন জরুরি। প্রযুি ক্ত ব্যবহার করে প্রতিটি যাত্রীর নথি যাচাই ও ট্র্যাকিং ব্যবস্থা চালু করতে হবে, যাতে কোনো অসঙ্গতি থাকলে তাৎক্ষণিকভাবে ধরা পড়ে। সবচেয়ে গুরুত্বপূর্ণ হলো অপরাধীদের কঠোর শাস্তি নিশ্চিত করা। বাংলাদেশে মানবপাচার বহুদিনের সমস্যা হলেও সাম্প্রতিক ঘটনাগুলো প্রমাণ করছে যে এ অপরাধ এখন রাষ্ট্রীয় প্রবেশদ্বার পর্যন্ত পেঁৗছে গেছে। কর্মসংস্থানের সংকট, বিদেশে কাজের সুযোগ সীমিত হয়ে পড়া এবং দালালচেμর প্রলোভন-সব মিলিয়ে হাজারো মানুষ প্রতিনিয়ত প্রতারণার শিকার হচ্ছেন। এ চμ শুধু গ্রামীণ দরিদ্র মানুষকে নয়, বরং শহরের মধ্যবিত্ত পরিবারগুলোকেও টার্গেট করছে। তারা ভিসার নামে ভুয়া কাগজপত্র তৈরি করছে, টুরিস্ট ভিসা বা ওমরাহ ভিসার আড়ালে মানুষকে বিদেশে পাঠাচ্ছে, আর সেখান থেকে অন্য দেশে পাচারের চেষ্টা করছে।