নিজস্ব প্রতিবেদক : টানা বৃষ্টিতে কুমিলস্না নগরীতে জলাবদ্ধতা দেখা দিয়েছে। এতে চরম ভোগান্তিতে পড়েছে এইচএসসি পরীক্ষার্থীরা। সোমবার সকালে নির্ধারিত সময়ে কেন্দ্রে পেঁছৗাতে পারেনি অনেক পরীক্ষার্থী। রাস্তাঘাটে থৈথৈ পানির কারণে অনেক জায়গায় যানবাহন চলাচল কমে গেছে। এ অবস্থায় নেকৗায় চড়ে কেন্দ্রে ঢুকছে দেখা গেছে পরীক্ষার্থীদের। নগরের মহিলা কলেজ কেন্দ্রের ভেতর শিক্ষার্থীদের জন্য নেকৗার ব্যবস্থা করা হয়। সকাল সাড়ে ৯টায় কুমিলস্না মহিলা সরকারি কলেজ কেন্দ্রে কয়েকজন শিক্ষার্থীকে নেকৗায় করে পরীক্ষা কেন্দ্রে যেতে দেখা গেছে। জলাবদ্ধতার কারণে শিক্ষার্থীদের ভোগান্তির বিষয়ে কুমিলস্না শিক্ষা বোর্ডের চেয়ারম্যান প্রফেসর আহসান পারভেজ বলেছেন, 'কেন্দ্র কর্তৃপক্ষ বিষয়টি সহানুভূতির সঙ্গে দেখছে।' মহিলা কলেজ কেন্দ্রের পরীক্ষার্থী তাছলিমা আক্তার বলেন, 'এমন প্রাকৃতিক দুর্যোগে সকল বোর্ডের পরীক্ষা স্থগিত রাখা উচিত ছিল। বৃষ্টিতে ভিজে পরীক্ষার কেন্দ্রে যেতে হচ্ছে। এ সময় অধিকাংশ পরীক্ষার্থীকে ভেজা কাপড়ে কেন্দ্রে যেতে দেখা যায়। ডুবে যাওয়া সড়কে কাউকে কাউকে পড়ে যেতেও দেখা গেছে। বর্ষায় পরীক্ষা নিয়ে অভিভাবকদেরও ক্ষোভ প্রকাশ করতে দেখা গেছে। কুমিলস্না ভিক্টোরিয়া সরকারি কলেজের অধ্যক্ষ প্রফেসর আবুল বাসার বলেন, এ কেন্দ্রে আটটি কলেজের ২১ শ' পরীক্ষার্থী আছে। মাঠে পানি থাকলেও রুমের ভেতর পানি নেই। যে সকল পরীক্ষার্থী একটু দেরিতে কেন্দ্রে এসেছে তাদের অতিরি ক্ত সময় দিতে বোর্ড থেকে নির্দেশ দেওয়া হয়েছে। কুমিলস্না শিক্ষা বোর্ডের চেয়ারম্যান প্রফেসর আহসান পারভেজ সমকালকে বলেন, বোর্ডের অধীন ৬ জেলায় ভারী বর্ষণে কেন্দ্রের সামনে ও রাস্তায় জলাবদ্ধতা দেখা দিলেও কক্ষের ভেতর কোথাও পানি ঢোকেনি। যেসব পরীক্ষার্থী কিছুটা বিলম্বে কেন্দ্রে গেছে তাদের বিষয়টি সহানুভূতির সাথে দেখতে সংশিস্নষ্টদের নির্দেশ দেওয়া হয়েছে। আশা করি, কোনো পরীক্ষার্থীর পরীক্ষা দিতে সমস্যা হবে না। কুমিলস্না 
সিটি করপোরেশনের প্রশাসক মো. ইউসুফ মোলস্না টিপু সমকালকে জানান, সকালে পরীক্ষা শুরুর আগ থেকে তিনি সরকারি মহিলা কলেজ কেন্দ্রে গিয়ে পরীক্ষার্থীদের নিরাপদে কেন্দ্রে প্রবেশের কাজ তদারকি করেছেন।আজ সোমবার মাত্র তিন ঘণ্টায় ১০৭ মিলিমিটার বৃষ্টি হয়েছে কুমিলস্নায়। এতে তলিয়ে গেছে নগরীর প্রধান সড়ক, অলিগলি ও আবাসিক এলাকা। কোথাও হঁাটুসমান, কোথাও কোমরসমান পানি জমে সৃষ্টি হয়েছে ভয়াবহ জলাবদ্ধতা। বাসাবাড়িতে পানি ঢুকে পড়ায় চরম দুর্ভোগে পড়েছেন মানুষ। এদিকে জলাবদ্ধতার সুযোগে রিকশা ও ব্যাটারিচালিত অটোরিকশার ভাড়া দ্বিগুণ পর্যন্ত বাড়িয়ে দিয়েছেন চালকেরা। অতিরি ক্ত ভাড়া গুণতে বাধ্য হচ্ছেন সাধারণ যাত্রীরা।কুমিলস্না আবহাওয়া অফিস জানিয়েছে, গত ২৪ ঘণ্টায় জেলায় ১৩৮ দশমিক ২ মিলিমিটার বৃষ্টিপাত রেকর্ড করা হয়েছে। এর মধ্যে সোমবার ভোর থেকে সকাল ৯টা পর্যন্ত মাত্র তিন ঘণ্টায় রেকর্ড হয়েছে ১০৭ মিলিমিটার