ঢাকা-চট্টগ্রাম মহাসড়কের যানজট নিরসনে রেলভিত্তিক সমাধানের প্রস্তাব মো: মঞ্জুরুল ইসলাম: ঢাকা-চট্টগ্রাম মহাসড়কের দীর্ঘদিনের যানজট সমস্যা নিরসনে বাংলাদেশ রেলওয়ের পক্ষ থেকে রেলভিত্তিক একগুচ্ছ সুপারিশ উপস্থাপন করা হয়েছে। প্রস্তাবনায় বলা হয়েছে, ঢাকা ও চট্টগ্রাম শহরের যানজট কমানোর পাশাপাশি যাত্রী ও পণ্যবাহী ট্রেনের সংখ্যা বৃদ্ধি এবং রেল অবকাঠামোর উন্নয়নের মাধ্যমে মহাসড়কের ওপর চাপ উলেস্নখযোগ্যভাবে কমানো সম্ভব। প্রস্তাবন - ায় উলেস্নখ করা হয়েছে, ঢাকা-টঙ্গী, ঢাকা-নারায়ণগঞ্জ ও ঢাকা-গাজীপুর রুটে মোট ৫০টি লেভেল μসিং থাকায় প্রতিদিন দীর্ঘ সময় যান চলাচল ব্যাহত হয়। এসব লেভেল μসিং ধাপে ধাপে ওভারপাস বা আন্ডারপাসে রূপান্তর করা গেলে শহরের যানজট উলেস্নখযোগ্য হারে কমবে এবং ট্রেন চলাচলও আরও গতিশীল হবে। এছাড়া ঢাকা-কুমিলস্না কর্ড লাইন নির্মাণ দ্রুত শেষ করার ওপর গুরুত্ব দেওয়া হয়েছে। এতে ঢাকা-চট্টগ্রাম ও কক্সবাজার রুটে অধিকসংখ্যক যাত্রী ও পণ্যবাহী ট্রেন পরিচালনা সম্ভব হবে। একই সঙ্গে চট্টগ্রাম-ধীরাশ্রম করিডোর উন্নয়ন, কন্টেইনার পরিবহন বৃদ্ধি এবং পণ্য পরিবহনে রেলের সক্ষমতা বাড়ানোর সুপারিশ করা হয়েছে। প্রস্তাবনায় কক্সবাজার রুটে ট্রেনের সংখ্যা বাড়ানোর কথাও বলা হয়েছে। এতে পর্যটকদের জন্য যাতায়াত সহজ হবে এবং সড়কপথে বাস ও ব্যি ক্ত গত যানবাহনের চাপ কমবে বলে মত দেওয়া হয়েছে। রেলওয়ের সক্ষমতা বাড়াতে অতিরি ক্ত লোকোমোটিভ ও কোচ সংগ্রহ, ঢাকা ও চট্টগ্রাম স্টেশনের সক্ষমতা বৃদ্ধি এবং প্রয়োজনীয় জনবল নিয়োগের সুপারিশ করা হয়েছে। এর ফলে আরও বেশি ট্রেন পরিচালনা সম্ভব হবে এবং প্রতিদিন বিপুলসংখ্যক বাস ও ট্রাকের চাপ মহাসড়ক থেকে কমানো যাবে বলে প্রতিবেদনে উলেস্নখ করা হয়েছে। এদিকে সড়ক ব্যবস্থাপনার উন্নয়নে স্থানীয় বাসের জন্য নির্ধারিত বাসস্টপ ব্যবহার নিশ্চিত করা, অবৈধ পার্কিং ও ফুটপাত দখল বন্ধ, ট্রাফিক ব্যবস্থার আধুনিকায়ন, সিসিটিভি মনিটরিং চালু, লাইসেন্সবিহীন যান 
ঢাকা-চট্টগ্রাম মহাসড়কের নিয়ন্ত্রণ এবং মহাসড়কের সংযোগ সড়কগুলো পুনর্বিন্যাসের সুপারিশও করা হয়েছে। পাশাপাশি রাস্তা খননের কাজ নির্ধারিত সময়ের মধ্যে শেষ করতে সংশিস্নষ্ট সংস্থাগুলোর জন্য কঠোর নীতিমালা প্রণয়নের পরামর্শ দেওয়া হয়েছে। প্রস্তাবনাটি বাংলাদেশ রেলওয়ের যুগ্ম-মহাপরিচালক (অপারেশন) মো. শহিদুল ইসলাম স্বাক্ষরিত একটি সুপারিশপত্রে তুলে ধরা হয়েছে। এতে বলা হয়েছে, রেল ও সড়ক উভয় খাতের সমন্বিত পরিকল্পনা বাস্তবায়ন করা গেলে ঢাকা-চট্টগ্রাম মহাসড়কের দীর্ঘদিনের যানজট অনেকাংশে নিয়ন্ত্রণে আনা সম্ভব হবে।