init($el.children[0]))">
নিজস্ব প্রতিবেদক :
আকাশে
মেঘ
জমলেই
এখন
ঢাকাবাসীর
মনও
অঁাধারে ঢাকে। ঘণ্টাখানেক ভারী বৃষ্টি হলেই ডুবে যায়
রাজধানীর
অধিকাংশ
সড়ক।
কোথাও
হঁাটুপানি,
কোথাও আবার জমে কোমরসমান। বন্ধ হয়ে যায়
যান চলাচল। সৃষ্টি হয় তীব্র যানজট। কর্মজীবী মানুষ
থেকে শুরু করে শিক্ষার্থী, রোগী, ব্যবসায়ীু সবাইকে
পোহাতে হয় চরম দুর্ভোগ।
রোববার (১২ জুলাই) টানা বৃষ্টিতে ঢাকার দুই সিটি
করপোরেশন এলাকার অধিকাংশ গুরুত্বপূর্ণ সড়কে
জলাবদ্ধতা সৃষ্টি হয়। পানির নিচে তলিয়ে যায় বিভি
-
ন্ন মোড়, অলিগলি ও নিম্নাঞ্চল। কোথাও ঘণ্টার পর
ঘণ্টা আটকে থাকে যানবাহন, কোথাও বিকল হয়ে
পড়ে ব্যি
ক্ত
গত গাড়ি ও গণপরিবহন।
সোমবার
(১৩
জুলাই)
সকাল
থেকে
বৃষ্টিপাত
অব্যাহত থাকায় অনেক এলাকায় জলাবদ্ধতা পুরোপু
-
রি কাটেনি। এই জলাবদ্ধতার অন্যতম বড় কারণ
হিসেবে উঠে এসেছে বৃষ্টির পানির স্বাভাবিক প্রবাহপথ
হারিয়ে যাওয়া। একসময় রাজধানীর অসংখ্য খাল,
জলাশয় ও প্রাকৃতিক নালা দিয়ে বৃষ্টির পানি দ্রুত
নদীতে নেমে যেত। কিন্তু বছরের পর বছর দখল,
ভরাট, অপরিকল্পিত নগরায়ণ এবং কার্যকর ড্রেনেজ
নেটওয়ার্ক গড়ে না ওঠায় সেই পথ প্রায় বন্ধ হয়ে
গেছে। বৃষ্টির পানি কোন পথে নদী-খালে যাবে সে
পথটিই যেন হারিয়ে গেছে! ফলে অল্প সময়ের ভারী
বৃষ্টিতেই রাজধানীর বিভিন্ন এলাকায় পানি আটকে
থেকে সৃষ্টি হচ্ছে দীর্ঘস্থায়ী জলাবদ্ধতা।
নগরবাসীর প্রশ্ন, প্রতি বছর বর্ষা এলেই কেন একই
চিত্র দেখা যায়? বছরের পর বছর খেঁাড়াখুঁড়ি, ড্রেন
পরিষ্কার, খাল খনন ও নানা প্রকল্প বাস্তবায়নের পরও
কেন রাজধানী জলাবদ্ধতার অভিশাপ থেকে মুি
ক্ত
পাচ্ছে না? কিন্তু নাগরিকদের এসব প্রশ্নের কোনো
উত্তর
নেই
ঢাকা
দক্ষিণ
সিটি
করপোরেশন
(ডিএসসিসি) ও ঢাকা উত্তর সিটি করপোরেশনের
(ডিএনসিসি)।
নাগরিকদের
অভিযোগ,
সিটি
করপোরেশন জলাবদ্ধতা নিরসনের নামে প্রতি বছরে
শত শত কোটি টাকা জলে ফেলছে। তারা কাজের
কাজ কিছুই করছে না। ফলে প্রতি বছর বর্ষায় তার
খেসারত দিচ্ছেন
নগরের
বাসিন্দারা।
এ সমস্যা
সমাধানে দীর্ঘমেয়াদি পরিকল্পনা জরুরি।
তবে ঢাকার দুই সিটি করপোরেশনের সংশিস্নষ্টদের
দাবি,
জলবায়ু
পরিবর্তনের
প্রভাব,
অপরিকল্পিত
নগরায়ণ, খাল দখল ও ভরাট, ড্রেনেজ
খাল-নদীর পথ হারিয়েছে বৃষ্টির
পানি, বারবার ডুবছে ঢাকা
খাল-নদীর পথ হারিয়েছে
ব্যবস্থার সীমাবদ্ধতা এবং কঠিন
বর্জ্য ব্যবস্থাপনার দুর্বলতার কারণে
জলাবদ্ধতা পরিস্থিতি μমেই আরও জটিল হয়ে উঠছে। এ সমস্যা নিরসনে
স্বল্প, মধ্য ও দীর্ঘমেয়াদি নানান উদ্যোগ বাস্তবায়ন করছে ডিএসসিসি ও
ডিএনসিসি। নগর পরিকল্পনাবিদদের মতে, শুধু ড্রেন পরিষ্কার বা বর্ষাকালে
খেঁাড়াখুঁড়ি করে জলাবদ্ধতার স্থায়ী সমাধান সম্ভব নয়। ঢাকার প্রাকৃতিক খাল
ও
জলাধার
সংরক্ষণ,
সমন্বিত
ড্রেনেজ
মাস্টারপস্ন্যান
বাস্তবায়ন,
পানি
নিষ্কাশনের নতুন আউটলেট নির্মাণ এবং সেবা সংস্থাগুলোর সমন্বিত উদ্যোগ
জরুরি। অন্যথায় ঢাকাকে জলাবদ্ধতার অভিশাপ থেকে মু
ক্ত
করা কঠিন।
ঢাকার
জলাবদ্ধতার
কারণডিএসসিসি
সূত্র
জানায়,
১০৯
দশমিক
২৪
বর্গকিলোমিটার এলাকা নিয়ে ঢাকা দক্ষিণ সিটি করপোরেশন। এখানে ৭৫টি
ওয়ার্ডে প্রায় দেড় কোটি মানুষের বাস। অথচ ওয়ার্ডগুলোর পানি নিষ্কাশনে
মাত্র চারটি আউটলেট আছে। এর মধ্যে মালিবাগ, শান্তিনগর, পল্টন ও
মতিঝিল এলাকার পানি টিটিপাড়া পাম্প স্টেশনের মাধ্যমে নিষ্কাশিত হয়।
ধোলাইখাল-সূত্রাপুর হয়ে বুড়িগঙ্গায় যায় পুরান ঢাকা, আজিমপুর, গুলিস্তান ও
হাজারীবাগ এলাকার পানি। গ্রিন রোড, তলস্নাবাগ ও পান্থপথ এলাকার পানি
হাতিরঝিল হয়ে রামপুরা পাম্প স্টেশনে যায়।এছাড়া যাত্রাবাড়ী, শ্যামপুর,
জুরাইন ও ডিএনডি এলাকার কিছু অংশের পানি শিমরাইল পাম্প স্টেশনের
মাধ্যমে শীতলক্ষ্যা নদীতে নিষ্কাশন করা হয়। ফলে ঢাকায় টানা এক ঘণ্টা
বৃষ্টি হলে ওই পানি একসঙ্গে মাত্র চারটি আউটলেট দিয়ে নিষ্কাশন সম্ভব নয়।
'বৃষ্টির পানি যেসব স্থানে জমে, সেগুলো দ্রুত সময়ে অপসারণে আমরা চেষ্টা
করছি। তবে আমাদের পানি নদীতে নামার পথ কম। সেগুলো আমি বাড়াতে
চেষ্টা করছি। এটা আমি করপোরেশনে দায়িত্ব নেওয়ার পরপরই বলেছি। এ
বছর কতটা সুযোগ দিতে পারবো জানি না। তবে আগামী বছর হয়তো
অনেকটা সুযোগ আসবে।'- ডিএসসিসি প্রশাসক বীর মুি
ক্ত
যোদ্ধা মোহাম্মদ
আবদুস সালামঢাকার বৃষ্টিপাতের তথ্য বিশেস্নষণে দেখা গেছে, ১৯৫৩ থেকে
২০২৪ সাল পর্যন্ত নগরীর বাৎসরিক গড় বৃষ্টিপাত ২ হাজার ১৭ দশমিক ৭
মিলিমিটার। বার্ষিক মোট বৃষ্টিপাত ও দৈনিক সর্বোচ্চ বৃষ্টিপাতের প্রবণতা
সামান্য কমলেও বৃষ্টিপাতের অনিয়মিত প্রকৃতি এবং তীব্র বৃষ্টিপাতের ঘটনা
বেড়েছে। ঢাকায় একদিনে সর্বোচ্চ ৩৪১ মিলিমিটার বৃষ্টিপাত রেকর্ড করা হয়
২০০৪ সালের ১৪ সেপ্টেম্বর। একই সময়ে দুদিনে সর্বোচ্চ ৪৯৭ মিলিমিটার
বৃষ্টিপাত হয়, যা অস্বাভাবিক হিসেবে বিবেচিত।
