রেল কর্মচারীদের বিনোদনের প্রাণকেন্দ্র ফিদা আলী মিলনায়তন বিলুপ্ত প্রায় (সৈয়দপুর, নীলফামারী) : উত্তরাঞ্চলের রেলের শহর সৈয়দপুর একসময় ছিল দেশের রেল ব্যবস্থার প্রাণকেন্দ্র। বিশাল রেলওয়ে কারখানা, হাজার হাজার শ্রমিক-কর্মচারী আর কর্মচঞ্চল পরিবেশ ঘিরে গড়ে উঠেছিল এক বিশেষ সংস্কৃতি। সেই সংস্কৃতির অন্যতম প্রাণ ছিল ফিদা আলী মিলনায়তন। একসময় রেল কর্মচারীদের বিনোদন, সাংস্কৃতিক চর্চা সামাজিক মিলনমেলার প্রধান কেন্দ্র হলেও আজ এটি বিলুপ্তির পথে। ১৯৪০ সালে সৈয়দপুর রেলওয়ে কারখানার তৃতীয় ও চতুর্থ শ্রেণির কর্মচারীদের বিনোদনের জন্য প্রায় তিন একর জায়গাজুড়ে নির্মাণ করা হয় এই প্রতিষ্ঠান। এখানে ছিল অডিটোরিয়াম, ইনডোর ও আউটডোর খেলাধুলার ব্যবস্থা, আড্ডা ও খাবারের স্থান। নিয়মিত নাটক, গান, নৃত্য ও সাংস্কৃতিক অনুষ্ঠানে মুখর থাকত পুরো এলাকা। কর্মব্যস্ত জীবনে একটু স্বস্তির নিশ্বাস ফেলার একমাত্র স্থান ছিল এই ফিদা আলী মিলনায়তন। প্রবীণদের মতে, ঈদ-পূজা কিংবা বিভিন্ন জাতীয় দিবসে ফিদা আলী মিলনায়তন হয়ে উঠত উৎসবের কেন্দ্রবিন্দু। রেল কর্মচারীদের সন্তানরাও এখানে সাংস্কৃতিক কর্মকাণ্ডে অংশ নিত। কিন্তু সময়ের সঙ্গে সঙ্গে কতৃর্পক্ষের অবহেলা, রক্ষণাবেক্ষণের অভাব এবং সাংস্কৃতিক কার্যμম কমে যাওয়ায় প্রতিষ্ঠানটি তার জেলৗুস হারাতে থাকে। বর্তমানে ইনস্টিটিউটের ভবন জরাজীর্ণ। দেয়াল চুঁইয়ে পানি পড়ে, দেয়ালে ধরেছে ফাটল, চারপাশে জন্মেছে আগাছা, চত্বরে এখন ঘাস খায় গরু ছাগল। ভেঙ্গে গেছে বাউন্ডারি প্রাচীর। চুরি হয়ে গেছে ভেঙ্গে পড়া প্রাচীরের ইট। অডিটোরিয়ামের আসবাবপত্র নষ্ট হয়ে গেছে। একসময় যেখানে প্রতিদিন সাংস্কৃতিক অনুষ্ঠান ও খেলাধুলার আয়োজন হতো, সেখানে এখন নীরবতা আর ধ্বংসস্তূপের চিহ্ন। স্থানীয়রা অভিযোগ করেন, রেলওয়ের ঐতিহ্যবাহী এই স্থাপনাটি সংরক্ষণের কোনো কার্যকর উদ্যোগ নেওয়া হয়নি। সৈয়দপুর রেলওয়ে কারখানা এখনও দেশের বৃহত্তম রেল কারখানা হিসেবে পরিচিত। তবে জনবল সংকট, অর্থাভাব এবং অব্যবস্থাপনার কারণে কারখানাটিও আগের গেরৗব হারাচ্ছে। একসময় হাজার হাজার শ্রমিক কর্মরত থাকলেও বর্তমানে সেই সংখ্যা অনেক কমে গেছে। এর প্রভাব পড়েছে রেলকেন্দ্রিক সামাজিক ও সাংস্কৃতিক প্রতিষ্ঠানগুলোর ওপরও। সংস্কৃতিমনা মানুষ ও রেল কর্মচারীরা মনে করেন, ফিদা আলী ইনস্টিটিউট শুধু একটি ভবন নয়; এটি সৈয়দপুরের রেল ঐতিহ্যের গুরুত্বপূর্ণ অংশ। দ্রুত সংস্কার ও আধুনিকায়নের মাধ্যমে প্রতিষ্ঠানটিকে পুনরুজ্জীবিত করা গেলে নতুন প্রজন্ম দেশের রেলওয়ের ঐতিহ্য সম্পর্কে জানতে পারবে এবং সাংস্কৃতিক কর্মকাণ্ড আবারও প্রাণ ফিরে পাবে। পদাধিকার বলে এটির চেয়ারম্যান ছিলেন সহকারী ওয়ার্কস ম্যানেজার ক্যারেজ। ১৯৭২ সালে এটির কার্যকরী সভাপতি ছিলেন মো: জয়নাল আবেদীন। ১৯৭৩ থেকে ৭৭ সাল পর্যন্ত ছিলেন মো: জাবেদ আলী। ২০০৪ সালে ছিলেন আব্দুর রশীদ।