init($el.children[0]))">
ঐতিহ্য ও বিনোদনের
প্রাণকেন্দ্র 'শহীদ আব্দুর
রাজ্জাক পার্ক'
(কলারোয়া, সাতক্ষীরা) : সাতক্ষীরা শহরের কোলাহল আর ব্যস্ততার মাঝে
বুক ভরে নি:শ্বাস নেওয়ার এক টুকরো সবুজ চত্বর 'শহীদ আব্দুর
রাজ্জাক পার্ক'। শহরের প্রাণকেন্দ্রে অবস্থিত এই ঐতিহাসিক পার্কটি
কেবল একটি বিনোদন কেন্দ্রই নয়, এটি সাতক্ষীরার রাজনৈতিক,
সামাজিক ও সাংস্কৃতিক আন্দোলনের এক নীরব সাক্ষী। প্রতিদিনই
শহরের হাজারো মানুষের পদচারণায় মুখরিত থাকে এই পার্ক প্রাঙ্গণ।
বিশেষ করে সকাল এবং বিকেলে সব বয়সী মানুষের জন্য এটি এক
অন্যতম মিলনমেলায় পরিণত হয়। ইতিহাস ও নামকরণ: মহান
মুি
ক্ত
যুদ্ধের গেরৗবময় ইতিহাসের সাথে জড়িয়ে আছে এই পার্কের
নাম। ১৯৭১ সালের মুি
ক্ত
যুদ্ধে দেশের জন্য প্রাণ উৎসর্গকারী বীর
শহীদ আব্দুর রাজ্জাকের স্মরণে এই পার্কটির নামকরণ করা হয়।
পার্কের ভেতরে প্রবেশ করলেই চোখে পড়ে এক কোণে দাঁড়িয়ে থাকা
দৃষ্টিনন্দন কেন্দ্রীয় শহীদ মিনার, যা আগত দর্শনার্থী ও তরুণ প্রজন্মের
মাঝে দেশপ্রেমের চেতনাকে জাগ্রত করে। নাগরিক জীবনের ফুসফুস:
যান্ত্রিক শহরের ব্যস্ত জীবন থেকে ক্লান্তি দূর করতে এই পার্কটি স্থানীয়
বাসিন্দাদের
কাছে
এক
বড়
আশ্রয়স্থল।
প্রাত:ভ্রমণ
ও
স্বাস্থ্য
সচেতনতা: প্রতিদিন ভোরে শহরের শত শত সচেতন নাগরিক এখানে
আসেন প্রাত:ভ্রমণ ও ব্যায়াম করতে। পার্কের বিশাল গাছপালার ছায়া
ঘেরা পরিবেশ ভোরের বাতাসকে রাখে সতেজ। বিকেলের আড্ডা ও
শিশু বিনোদন: বিকেলে পার্কটি মুখরিত হয়ে ওঠে শিশু-কিশোর ও
তরুণ-তরুণীদের
আড্ডায়।
পরিবারের
সবাইকে
নিয়ে
একটু
খোলামেলা পরিবেশে সময় কাটানোর জন্য এটি শহরের সবচেয়ে
জনপ্রিয় স্থান। সাংস্কৃতিক ও রাজনৈতিক কেন্দ্রবিন্দু: সাতক্ষীরার
যেকোনো বড় উৎসব, মেলা, রাজনৈতিক সমাবেশ কিংবা সাংস্কৃতিক
অনুষ্ঠানের মূল ভেন্যু হিসেবে বছরের পর বছর ধরে ব্যবহৃত হয়ে
আসছে এই শহীদ আব্দুর রাজ্জাক পার্ক। বিজয় মেলা, বইমেলা কিংবা
স্বাধীনতা দিবসের বিভিন্ন অনুষ্ঠানকে কেন্দ্র করে এই মাঠ উৎসবের
নগরীতে পরিণত হয়। সংস্কার ও আধুনিকায়নের প্রত্যাশা: স্থানীয়
দর্শনার্থীদের সাথে কথা বলে জানা যায়, পার্কের পরিবেশ রক্ষায় এবং
সেন্দৗর্য আরও বৃদ্ধি করতে কিছু সংস্কার প্রয়োজন। পার্কের ভেতর
বসার পর্যাপ্ত আধুনিক বেঞ্চের ব্যবস্থা করা, ওয়াকওয়ে (হাঁটার পথ)
আরও উন্নত করা এবং নিরাপত্তা ব্যবস্থা আরও জোরদার করার দাবি
জানান তারা। নাগরিকদের অভিমত: শহীদ আব্দুর রাজ্জাক পার্কটি
আমাদের সাতক্ষীরা শহরের প্রাণ। পেরৗ কতৃর্পক্ষ ও জেলা প্রশাসন
যদি পার্কটির সেন্দৗর্য বর্ধনে এবং পরিবেশ রক্ষায় আরও একটু নজর
দেয়, তবে এটি দেশের অন্যতম সেরা একটি দর্শনীয় স্থান হিসেবে
গড়ে উঠতে পারে। সব মিলিয়ে, সাতক্ষীরার ঐতিহ্য ও নাগরিক
জীবনের স্পন্দন হয়ে আজও মাথা উঁচু করে দাঁড়িয়ে আছে শহীদ
আব্দুর রাজ্জাক পার্ক। শহরের সেন্দৗর্য ধরে রাখতে এবং ভবিষ্যৎ
প্রজন্মের সুস্থ বিনোদনের স্বার্থে এই পার্কের যত্ন নেওয়া আমাদের
সবার দায়িত্ব।
